বয়স কি সত্যিই স্বপ্ন দেখার বাধা হতে পারে? হরে কৃষ্ণ ঘোষ মহাশয়ের জীবনকাহিনী তার এক অনন্য উত্তর। পঞ্চাশের কোঠায় পা রেখেও যিনি স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলেছেন অবিরাম, সংসার-সন্তান-কাজের দায়িত্ব সামলেও যিনি হাল ছাড়েননি, তিনিই আজ NET December 2025 পরীক্ষায় শিক্ষা বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে ইচ্ছাশক্তি আর ধৈর্য থাকলে বয়স শুধুই একটা সংখ্যা।
BSSEI-এর ‘টপারস টক’ অনুষ্ঠানে অমিত স্যারের সঙ্গে হরে কৃষ্ণ বাবুর কথোপকথনে উঠে এসেছে তাঁর সংগ্রাম, অধ্যবসায় এবং সফলতার অসাধারণ এক গল্প।
NET পরীক্ষায় পরপর তিনবার হরে কৃষ্ণ বাবু মাত্র এক-দুটো প্রশ্নের জন্য অনুত্তীর্ণ হয়েছিলেন। এমনকি Admission to PhD হতে হতেও তিনি ক্লান্ত বোধ করেছেন। কিন্তু এবার তাঁর মনে ছিল দৃঢ় প্রতিজ্ঞা—যে করেই হোক NET পাসটা করতেই হবে। ফলাফলের দিন সার্ভার ডাউন থাকায় রাত দুই-তিনটে পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন তিনি। প্রফেশনাল আনসার কি দেখে জানতে পেরেছিলেন যে তাঁর ৮৪টি প্রশ্নের উত্তর সঠিক হয়েছে, অর্থাৎ ১৬৮ নম্বর। কাট-অফ নিয়ে সামান্য দুশ্চিন্তা থাকলেও BSSEI এবং অমিত স্যারের অনুপ্রেরণা তাঁকে আশাবাদী করে রেখেছিল।
অমিত স্যার যখন জিজ্ঞেস করলেন, এই বয়সে এসে যেখানে মানুষ হাড়ের ব্যথা কিংবা সংসারের চাপে জর্জরিত হয়ে পড়ে, সেখানে আপনি কীভাবে স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখলেন? হরে কৃষ্ণ বাবুর উত্তরটি ছিল অত্যন্ত সহজ কিন্তু গভীর—কনসিস্টেন্সি এবং পজিটিভ থিংকিং।
তিনি বললেন, “আমি নেগেটিভের দিকে যেতে চাই না। আমি এটাকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম—সবাই যদি পারে, আমি কেন পারব না? পরপর তিনবার এক-দুটো প্রশ্নের জন্য পিছিয়ে পড়েও আমি হাল ছাড়িনি। এখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার লোক আমি নই।“
এই মনোভাবই তাঁকে ব্যর্থতার পরও আবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছিল।
বাজারে অনেক কোচিং সেন্টার থাকা সত্ত্বেও হরে কৃষ্ণ বাবু BSSEI-কেই বেছে নিয়েছিলেন এবং বারবার ব্যর্থতার পরেও অন্য কোথাও যাওয়ার কথা ভাবেননি। কারণটা তিনি নিজেই ব্যাখ্যা করেছেন:
“আপনাদের টেকনিক, সিস্টেম আর প্ল্যান আমাকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে টপিক অনুযায়ী মক টেস্টের রুটিনগুলো এত সুন্দর এবং বৈজ্ঞানিক যে ওটাই আমাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।”
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন ফার্স্ট পেপারের ওপর BSSEI-এর জোর—ম্যাথমেটিক্যাল রিজনিং, ডেটা ইন্টারপ্রিটেশন, রিসার্চ অ্যাপ্টিটিউড—এই ক্লাসগুলো তাঁর জন্য অত্যন্ত উপকারী ছিল। বিদ্যানন্দ স্যারের ম্যাথমেটিক্যাল রিজনিং ক্লাসগুলো তাঁর বিশেষ পছন্দের তালিকায় ছিল। লাইভ ক্লাসগুলো-ও তাকে খুব হেল্প করেছে।
তবে শুধু পড়ানোর মান নয়, অমিত স্যারের পজিটিভ মাইন্ডসেট এবং প্র্যাকটিক্যাল পরামর্শই হরে কৃষ্ণ বাবুকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর কথায়, “আপনি যেভাবে ছাত্রছাত্রীদের মোটিভেট করেন, সেটা কোনো কোচিং কেন, অনেক সময় বাবা-মাও পারে না। আপনার কথার মধ্যে কোনো স্বার্থপরতা নেই, আপনি বাস্তব জীবন নিয়ে কথা বলেন।“
সংসার, টিউশন এবং অন্যান্য দায়িত্ব সামলে পড়াশোনার জন্য সময় বের করা সত্যিই কঠিন। কিন্তু হরে কৃষ্ণ বাবু প্রমাণ করেছেন যে ইচ্ছাশক্তি থাকলে উপায় হয়। তিনি টিউশন থেকে ফিরে দুপুর ১২টা থেকে ৪টে পর্যন্ত পড়াশোনা করতেন। আবার রাত ৯টার পর থেকে ১১টা বা ১২টা পর্যন্ত বই নিয়ে বসতেন। দিনে অন্তত ৪-৫ ঘণ্টা পড়াশোনার জন্য বরাদ্দ রাখতেন তিনি।
তাঁর রুটিনটিও ছিল সুনির্দিষ্ট—দিনের বেলায় ফার্স্ট পেপার এবং রাতে সেকেন্ড পেপার। BSSEI-এর রুটিনগুলো তাঁর মতে ছোট বাচ্চাদের পড়াশোনার রুটিনের মতো হাতে ধরে সব বুঝিয়ে দেয়।
হরে কৃষ্ণ বাবু BSSEI ডিজিটাল লার্নিং অ্যাপ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন, “অ্যাপটা অসম্ভব ভালো। অ্যাপের ভেতরে গত ১০ বছরের পিওয়াইকিউ (PYQ) থেকে শুরু করে সব স্টাডি মেটেরিয়াল খুব সুন্দরভাবে সাজানো আছে। সত্যি বলতে, মেটেরিয়াল এত বেশি যে আমি সব পড়ে শেষ করার সময় পেতাম না।”
যারা বর্তমানে NET পরীক্ষার জন্য লড়াই করছেন, তাদের জন্য হরে কৃষ্ণ বাবুর পরামর্শগুলো অত্যন্ত মূল্যবান:
১. কনসেপ্ট ক্লিয়ার করুন: শুধু সাজেশন পড়ে এখন আর NET পাওয়া সম্ভব নয়। টেক্সট বই খুঁটিয়ে পড়তে হবে।
২. রিভাইস, প্র্যাকটিস এবং PYQ সলভ করুন: এবারের পরীক্ষায় PYQ থেকেও প্রশ্ন ঘুরিয়ে এসেছে। তাই এডুকেশন সাবজেক্টে যারা আছেন, তাদের টেক্সট বইয়ের প্রতিটি কোণা ভালো করে পড়তে হবে।
৩. ইংরেজি কি-ওয়ার্ড এবং এলিমিনেশন মেথড: বাঙালিদের মধ্যে ইংরেজির একটা ভয় থাকে। তাই ইংরেজি কি-ওয়ার্ডগুলো ধরুন এবং এলিমিনেশন মেথড শিখুন।
৪. নিয়মিত পড়াশোনা এবং পজিটিভ থাকুন: কনসিস্টেন্সি এবং পজিটিভ মাইন্ডসেট সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
হরে কৃষ্ণ ঘোষ মহাশয়ের এই যাত্রা শুধুমাত্র একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার গল্প নয়, এটি জীবনের যেকোনো পর্যায়ে স্বপ্ন দেখা এবং তা পূরণ করার এক অনুপ্রেরণাদায়ক বার্তা। তিনি প্রমাণ করেছেন যে বয়স, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা বারবার ব্যর্থতা—কিছুই আপনার লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধা হতে পারে না, যদি আপনার মধ্যে থাকে দৃঢ় সংকল্প, নিয়মিত পরিশ্রম এবং ইতিবাচক মনোভাব।
অমিত স্যারের কথায়, “হরে কৃষ্ণ বাবু, আপনি সত্যিই একজন অনুপ্রেরণা। বয়স যে শুধু একটা সংখ্যা মাত্র, তা আপনি প্রমাণ করে দিলেন।”
আপনিও কি স্বপ্ন দেখছেন? তবে হরে কৃষ্ণ বাবুর গল্পটি আপনার জন্য। কারণ স্বপ্ন দেখার কোনো বয়স নেই—আছে শুধু ইচ্ছাশক্তি আর ধৈর্যের পরীক্ষা।
বছরের শুরুতেই একগুচ্ছ খুশির খবর উপহার দিচ্ছে সরকার। চাকরি প্রার্থীদের...
WBPSC Clerkship 2024-25-এর ছোটো নোটিফিকেশন প্রকাশিত হয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক...
পশ্চিমবঙ্গ সরকার বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা নিয়ে থাকে।...
RRB Group D লেভেল ১ পরীক্ষা ভারতীয় রেলওয়ে রিক্রুট্মেন্ট বোর্ড...