মঙ্গলবার, অর্থাৎ আজ থেকেই শুরু যাচ্ছে WB SIR প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় কাদের নাম থাকতে হবে? কাদের কোনও নথি প্রমান দিতে হবেনা? কাদের নাম বাদ যাবে? এই নিয়ে চারিদিকে জোরকদমে আলোচনা চলছে। কমিশনের ১১ টি নথির তালিকা দেখে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পরেছেন। ভাবছেন, কী কী করতে হবে, কোথায় জমা দিতে হবে এই নথি? অনেকের কাছেই আবার SIR সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট নয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক, SIR কী এবং কীভাবে এই তালিকায় নিজের নাম নথিভুক্ত করবেন।
আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট। বিহারের কমিশনের মতই, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন কমিশন ও চাইছেন, ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ সম্পূর্ণ করে, একটি নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করতে। তারা চাইছেন SIR এর চূড়ান্ত তালিকা ধরেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন করতে। রাজ্যবাসীর অনেকের-ই মনে এই নানা প্রশ্ন জেগেছে এর-ই মধ্যে। কারা কারা ভোট দিতে পারবে? কী কী নথি জমা দিতে হবে? কোথায় যেতে হবে নথি জমা দিতে? অবৈধ ভোটার কারা? এইসব প্রশ্নেরই উত্তর নিয়ে, আজকের এই ব্লগটি।
ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ প্রত্যেক বছরই হয়। নতুন নাম যেমন নথিভুক্ত করা হয়, তেমন মৃত ব্যাক্তি ও অবৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে নতুন তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এই বছর কমিশন মনে করছে, এই প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ নয়। নাম তোলা এবং বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক ফাঁক থেকে গিয়েছে বলে মনে করছে কমিশন। SIR করে সব ভোটারের নাম নতুন করে তালিকায় নথিভুক্ত করা হবে। নিশ্চিত করা হবে দু’টি বিষয়। এক, কোনও বৈধ ভোটার যেন বাদ না যান। দুই, একজনও অবৈধ ভোটার যেন তালিকায় না থাকেন। যেহেতু পশ্চিমবঙ্গে, ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় শেষ বার আমূল বিশেষ সংশোধন হয়েছিল। এরপর গত ১০-১৫ বছরে গোটা দেশে এই কাজ আর করেনি কমিশন। এখন সংশোধন করার প্রসঙ্গে কমিশনের বক্তব্য, এসআইআরের জন্য নির্দিষ্ট কোনও দিনক্ষণ নেই। তাই, এই তালিকাকেই মুখ্য তালিকা বলে ধরে নিয়ে, এই তালিকা অনুযায়ী SIR হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
পশ্চিমবঙ্গ সহ মোট ১২টি রাজ্যে SIR করা হবে। আজ অর্থাৎ ২৮শে অক্টোবর থেকে শুরু হবে প্রিন্টিং। ৪ই নভেম্বর থেকে ৪ই ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে এনুমারেশন ফর্ম। ৯ই ডিসেম্বর খসরা প্রকাশ করা হবে। ৯ই ডিসেম্বর থেকে ৮ই জানুয়ারি অভিযোগ ও দাবিদাওয়া জানানো যাবে। ৯ই ডিসেম্বর থেকে ৩১শে জানুয়ারি পর্যন্ত নোটিশ ফেজ অর্থাৎ এই সময়ে শুনানি ও ভেরিফিকেশন হবে ৷ ৭ই ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে।
SIR এর জন্য প্রত্যেক রাজ্যবাসীর বাড়িতে ‘এনুমারেশন ফর্ম’ পোঁছে দেবেন বুথ লেভেল অফিসারেরা। সেই ফর্মের সঙ্গে কমিশনের ঠিক করে দেওয়া ১১টি নথির প্রমাণ দিতে হবে। বিহারের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, দু’-একটি পরিবর্তন ছাড়া বিহারের মতো পশ্চিমবঙ্গেও একই ভাবে SIR হবে। ২০০২ সালের একটি ভোটার অনুযায়ী, এই রাজ্যে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের কোনও নথিই দিতে হবে না। ওই তালিকায় নাম দেখাতে পারলেই এ বারের SIR এ তাঁদের নাম উঠে যাবে। SIR এ ১১টি নথির নির্দিষ্ট উল্লেখ করে দিয়েছে কমিশন। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে পরিচয়পত্র হিসাবে আধার কার্ড ব্যবহার করা যাবে। কমিশন জানিয়েছে, ওই ১১টির মধ্যে যে কোনও একটি নথি এবং ২০০২ সালের তালিকায় বাবা অথবা মায়ের নাম রয়েছে প্রমাণ করতে পারলেই নতুন তালিকায় নাম উঠবে।
১) কেন্দ্রীয় অথবা রাজ্য সরকারের কর্মী হিসাবে কাজ করেছেন অথবা পেনশন পান এমন পরিচয়পত্র। ২) ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসি, স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া যে কোনও নথি। ৩) জন্ম শংসাপত্র। ৪) পাসপোর্ট। ৫) মাধ্যমিক বা তার অধিক কোনও শিক্ষাগত শংসাপত্র। ৬) রাজ্য সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বাসস্থানের শংসাপত্র। ৭) ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট। ৮) জাতিগত শংসাপত্র। ৯) কোনও নাগরিকের ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার। ১০) স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া পারিবারিক রেজিস্ট্রার। ১১) জমি অথবা বাড়ির দলিল।
এ ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক পরিচয়পত্র হিসাবে আধার কার্ড দেখানো যাবে। তবে তা দেখিয়ে নাগরিকত্বের দাবি করা যাবে না। কমিশন জানিয়েছে, আধার কার্ডের সঙ্গে এই ১১টি নথির যে কোনও একটি দিতে হবে। এই ১১টি নথির বাইরে কোনও নথি যদি নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারে, তবে তা-ও গ্রহণ করা হবে।
SIR ঘোষণার পরেই দিল্লি থেকে এনুমারেশন ফর্মের ‘সফ্ট কপি’ নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ERO)-দের পোর্টালে পাঠিয়ে দেবে কমিশন। তার পরে সেগুলি যাবে ছাপার জন্য। এখনকার ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে, এমন সকলেই এনুমারেশন ফর্ম পাবেন। প্রত্যেক ভোটারের এনুমারেশন ফর্ম আলাদা। ভোটারের এপিক নম্বর, নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ-সহ ৯০ শতাংশ তথ্য ফর্মে ছাপা থাকবে। একজন ভোটারপ্রতি দু’টি করে এনুমারেশন ফর্ম ছাপবে কমিশন। এখন পশ্চিমবঙ্গের ভোটার সংখ্যা প্রায় ৭.৬৫ কোটি। তার দ্বিগুণ ফর্ম ছাপা হবে। ওই ফর্মগুলি প্রত্যেক ভোটারের বাড়িতে পোঁছে দেবেন বুথ লেভেল অফিসারেরা (BLO)। ফর্মের বাকি অংশ পূরণ করে উপযুক্ত নথি-সহ জমা দিতে হবে। একটি ফর্ম সংশ্লিষ্ট ভোটারের কাছে থাকবে। অন্যটি বুথ লেভেল অফিসার নিয়ে যাবেন।
ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় পরিবারের কারও নাম নেই, এমন ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে পারে কমিশন। ভোটার তালিকায় থাকা সব মৃত এবং অবৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়বে। যাঁরা অন্যত্র চলে গিয়েছেন বা যাঁদের নাম দু’টি এপিক নম্বরে দু’জায়গায় রয়েছে তাঁদের নাম এক জায়গা থেকে বাদ পড়বে। কারচুপি করে তালিকায় নাম তোলা ব্যক্তিরা ‘অবৈধ ভোটার’। এ ক্ষেত্রে বিশেষত বাইরে থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের ইঙ্গিত করা হয়েছে। কমিশন মনে করছে, কারচুপি করে ওই ১১টি নথির মধ্যে কোনও একটি তৈরি করা গেলেও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাবা বা মায়ের নাম দেখাতে পারবেন না তাঁরা। স্বাভাবিক ভাবেই তখন নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। ভারতের নাগরিক প্রমাণ করতে না পারলে নাম বাদ যাবে।
এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য কমিশনের কাছে নেই। তবে কমিশন আধিকারিকদের একাংশের অনুমান, এক কোটির কাছাকাছি নাম বাদ পড়তে পারে। তাঁদের মত অনুযায়ী, ২০০২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরের হিসাব ধরলে মৃত এবং অন্যত্র চলে গিয়েছেন, বাদ পড়া এমন ভোটারের সংখ্যা কমপক্ষে ৭৫ লক্ষ। এর সঙ্গে গত ২৩ বছরে অবৈধ ভোটার ধরলে সংখ্যাটি কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে কমিশন।
নতুন নাম নথিভুক্ত করা যাবে। কোনও ভোটার তালিকায় নাম নেই, এমন ব্যক্তিদের নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলাতে হবে। তাঁরা এনুমারেশন ফর্ম পাবেন না। তাঁদের কমিশনের ৬ নম্বর ফর্মে আবেদন করে নাম নথিভুক্ত করতে হবে। কমিশনের আগের বেঁধে দেওয়া নিয়মেই নাম তোলা যাবে।
SIR হলে ২০২৬ সালে বিধানসভা ভোটের আগে নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। কোনও ভোটার SIR এ অংশ না নিলে নতুন তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ যাবে। তিনি আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। নতুন ভোটার তালিকায় নাম রাখতে গেলে যে কোনও উপায়ে SIR প্রক্রিয়ায় আসতেই হবে।
২০০২ সালে রাজ্যে ভোটার ছিল ৪.৫৮ কোটি। এখন তিন কোটি বেড়ে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭.৬৫ কোটি। যার উপর ভিত্তি করে বিশেষ সংশোধন করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথমে কমিশন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক, নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক, বুথ লেভেল অফিসারদের নিয়ে ম্যাপিংয়ের কাজ করছে। ২০০২ সালের সঙ্গে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। দুই তালিকাতেই যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা ম্যাপিংয়ের আওতায় আসছেন। অর্থাৎ, ওই ভোটারদের চিহ্নিত করা গিয়েছে। তাঁদের পরিবারের সদস্যেরা যে ভারতীয় নাগরিক, সে বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত কমিশন। তাঁদের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসাবে কোনও নথির প্রয়োজন নেই।
CEO দফতরের ওয়েবসাইটে ২০০২ সালের ওই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তখনকার বিধানসভা এলাকা অনুযায়ী তালিকা প্রকাশিত করা আছে। ভোটগ্রহণ কেন্দ্র মিলিয়ে নাম রয়েছে কি না তা যাচাই করতে পারবেন ভোটারেরা নিজেই। অথবা, নিচের দেওয়া লিঙ্ক এ গিয়ে খুঁজে নিতে পারবেন নিজের এলাকার তালিকার পিডিএফ।
বিহারে এক মাসের মধ্যে এসআইআরের মূল কাজ শেষ করেছে কমিশন। তার পরে খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়। সেখানে কোনও ভুল রয়েছে কি না বা কোনও অভিযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখে কমিশন। খসড়া তালিকার প্রায় এক মাস পরে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও বিহারের মতো একই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে।
গত সপ্তাহে সারা দেশে SIR প্রস্তুতির দ্বিতীয় পর্যায়ের বৈঠক করেছে কমিশন। দিল্লিতে বুধ এবং বৃহস্পতিবার এই দু’দিন ধরে চলেছে ওই বৈঠক। আগামী বছর ভোট রয়েছে, এমন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-দের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেছে কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলার সিইও মনোজ আগরওয়াল। কমিশন সূত্রের খবর, বিএলও নিয়োগ নিয়ে কিছু অসুবিধা থাকলেও বাকি সব প্রস্তুতি সারা হয়েছে বলে নির্হাচন কমিশনারকে জানিয়েছেন পশ্চিবঙ্গের সিইও মনোজ।
বছরের শুরুতেই একগুচ্ছ খুশির খবর উপহার দিচ্ছে সরকার। চাকরি প্রার্থীদের...
WBPSC Clerkship 2024-25-এর ছোটো নোটিফিকেশন প্রকাশিত হয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক...
পশ্চিমবঙ্গ সরকার বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা নিয়ে থাকে।...
RRB Group D লেভেল ১ পরীক্ষা ভারতীয় রেলওয়ে রিক্রুট্মেন্ট বোর্ড...